৮০ হাজার মাদক মামলার জট, পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৫ জুন ২০২৬, ০১:১৭ দুপুর
  • ১৭৭৬৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশে বিচারাধীন প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলার জট কমাতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা এ সুযোগে সুবিধা পাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জট নিরসনে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিদ্যমান এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতগুলোতেও বিচার কার্যক্রম চলবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ীর নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও অভিযান পরিচালনাকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে সংশোধিত আইনে আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, নিজস্ব হাজতখানা এবং পরিবহন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা নিশ্চিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মাদক শনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার না থাকায় জব্দকৃত মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে বিচার ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক জরিপে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মাদকসেবীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক তরুণ মাদকের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বিভাগীয় পর্যায়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।

তিনি জানান, ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।

বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যার তুলনায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা এখনও অপর্যাপ্ত। তাই বেসরকারি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নয়নে সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টিকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad