যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চাপ এবং নিজ দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান জনমত–উভয় দিক থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরাইল সরকারের অবস্থান নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি সামরিক ও সরকারি মহল একাধিকবার দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী পূর্ণ স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ জনমতকে আশ্বস্ত করার রাজনৈতিক কৌশল।
ইসরাইলে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—সব পক্ষই নিজেদের কঠোর অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে নেতানিয়াহু সরকার—এমনটাই ধারণা পর্যবেক্ষকদের।
অন্যদিকে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ জনমতও সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হিজবুল্লাহকে প্রতিহত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠছে।
ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রশ্নে নেতানিয়াহু সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে একসঙ্গে জটিল করে তুলেছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক