যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির পথে অগ্রগতি, পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের প্রস্তাব

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০১ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ রাত
  • ২৮৬৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির পথে অগ্রগতি, পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের প্রস্তাব


দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি ডলার) একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি, শিল্পখাত, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

অন্যদিকে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, এটি সরাসরি ক্ষতিপূরণ নয়; বরং বিভিন্ন দেশের আর্থিক সহায়তায় গঠিত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল। যুক্তরাষ্ট্র এ তহবিল গঠনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে। উভয় পক্ষ খসড়া সমঝোতায় সম্মত হলে প্রাথমিক ৬০ দিনের আলোচনার সময় তহবিলের কাঠামো ও অর্থায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে শুধু সংঘাত নিরসন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আওতায় কোনো দেশ অপর দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাবে না। মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করবে এবং আলোচনাকালীন তাদের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

এছাড়া ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি অব্যাহত রাখা এবং সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে ইরানি যৌথ উদ্যোগে মার্কিন জ্বালানি ও তেল কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে ইরানের দাবি, অর্থ ছাড়ের বিষয়টি ফলপ্রসূ আলোচনার আগেই নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ায় পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল রয়েছে।

আলোচনার দ্বিতীয় ধাপে ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ১০ টন নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এসব ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের দাবি জানালেও ইরান তা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিজেদের ভূখণ্ডে সংরক্ষণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় ইউরেনিয়াম লঘুকরণ অথবা অন্য কোনো নিরাপদ দেশে স্থানান্তরের বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এসব উপাদান যেন কোনোভাবেই রাশিয়া বা চীনে পাঠানো না হয়।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস, টাইমস অব ইসরাইল




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad