ইরানে হামলায় আমিরাতের গোপন সম্পৃক্ততার দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ মে ২০২৬, ০৮:২০ রাত
  • ২৫৮৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ইরানে হামলায় আমিরাতের গোপন সম্পৃক্ততার দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের



ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোপনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে আমিরাত ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সংঘাত শুরুর পরপরই আমিরাত ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু করে এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন পর্যন্ত এসব অভিযান অব্যাহত ছিল। পত্রিকাটির দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নেতৃত্বাধীন অভিযানে আবুধাবির সম্পৃক্ততা পূর্বে ধারণা করা তুলনায় বেশি ছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালীর কেশম ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসালুয়েহ স্থাপনায় হামলাটি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছিল। এ হামলা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আর কোনো হামলা না চালানোর আহ্বান জানায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমিরাতের কিছু হামলা ছিল ইরানের পাল্টা আক্রমণের জবাব। সংঘাত চলাকালে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে ২ হাজার ৮০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আবুধাবি ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ইরান ইস্যুতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমিরাতের অবস্থান ছিল ভিন্ন। যেখানে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ তুলনামূলক সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে, সেখানে আবুধাবি সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথ বেছে নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির কয়েকদিন আগে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, ইরানে আমিরাতের হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। রিয়াদ চেয়েছিল, ওয়াশিংটন যেন আবুধাবিকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রেখে কূটনৈতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘাতের শুরুতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও সৌদি আরব ইরানের হামলার নিন্দা জানায়, তবে দেশটি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেয়।

এদিকে প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত এবং এর পরিণতির দায় সম্পূর্ণভাবে ইরানের।

উল্লেখ্য, এর আগেও ইরানের অভ্যন্তরে আমিরাতের হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার সময় লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং স্থাপনাটির উৎপাদন সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad