সীমান্তবর্তী কসবায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে বহুমুখী উদ্যোগের সুফল
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ২০ মে: সীমান্তবর্তী উপজেলা কসবায় প্রাথমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামাজিক উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
সীমান্তবর্তী তিনটি ইউনিয়নসহ কসবায় দেখা যায়, কিছু শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পর ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে পাঠের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে পিছিয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে বিদ্যালয় ফাঁকি দিতে শুরু করে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয় এবং ঝরে পড়ার হার বাড়ে।
স্থানীয় প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, অভিভাবকদের অশিক্ষা, পারিবারিক কাজে শিশুদের সম্পৃক্ততা এবং সচেতনতার অভাব এ সমস্যাকে আরও তীব্র করছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে কিছু পরিবার জড়িয়ে পড়ায় শিশু-কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, দরিদ্র পরিবারকে সেলাই মেশিন, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের জন্য সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে অনেক পরিবার সন্তানদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন—যেমন রাস্তা সংস্কার, স্কুলের বাউন্ডারি নির্মাণ, খেলার মাঠ উন্নয়ন—শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে উপবৃত্তি কার্যক্রম ও মিড-ডে মিল চালু করার প্রস্তাব ঝরে পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকাগুলোতে কর্মসংস্থানের চাপে শিশুদের অনিয়মিত স্কুল উপস্থিতি এবং শিশুশ্রমও ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশাসনের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—নিয়মিত অভিভাবক সভা, শিক্ষকদের উপস্থিতি মনিটরিং, হোম ভিজিট কার্যক্রম, গ্রুপভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার এবং স্কুলে লাইব্রেরি ব্যবহারের সময় বাধ্যতামূলক করা।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম (৩৬তম বিসিএস, প্রশাসন ক্যাডার) বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক-অভিভাবক-প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
তিনি জানান, নিয়মিত মনিটরিং, সময়মতো স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের জবাবদিহিতা বাড়াতে ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম রোধ, অভিভাবক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কসবায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।
— প্রতিবেদক

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স