সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী একটি পক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং প্রতিবাদ করায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমডাঙ্গা উত্তরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা লিটন কুমার দাস (৩৪) পৈতৃক সূত্রে প্রায় ৯১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী একটি পক্ষ ওই জমির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করে আসছিল। সর্বশেষ গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিটন কুমার দাস বলেন,
“আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় আমাদের দুর্বল ভাবা হচ্ছে। সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জোর করে জমি দখলের চেষ্টা চলছে। পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত আরিফ গং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাড়িঘরে হামলার ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়ার চাপও সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ৯ ফেব্রুয়ারি আমডাঙ্গা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে আরিফ (৩০)সহ সাতজনকে আসামি করে সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আলহাজ সখিমুদ্দিন মাস্টার বলেন,
“গ্রামের প্রধানরা একাধিকবার শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিবাদী পক্ষ কাগজপত্র উপস্থাপন না করে জমির দাবিতে অনড় থাকায় সমাধান সম্ভব হয়নি।”
অভিযুক্ত আরিফ মুঠোফোনে জানান, তাদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তার দাবি, থানায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক