বিক্ষোভে গুলি চালানো হয়নি, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়: অন্তর্বর্তী সরকার
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়নি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার এসব তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হননি এবং কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
সরকার জানায়, ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথমদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।
শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এ সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নেন। তবে তাঁদের কারো শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক