কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে তাদের অস্তিত্ব, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি, যুলকারনাইনের নির্মিত প্রতিবন্ধক এবং কিয়ামতের আগে তাদের বেরিয়ে আসার বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। তবে তাদের শারীরিক গঠন, উচ্চতা, জীবনযাপন ও সৃষ্টি নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা বিস্ময়কর কাহিনি। এসব কাহিনির অনেকগুলোরই নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। কোনোটি দুর্বল, কোনোটি জাল, আবার কোনোটি ইসরাইলি বর্ণনা থেকে এসেছে।
ইসলামি জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে কোনো বক্তব্য প্রচারের আগে তার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা। তাই ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে প্রচলিত কাহিনি এবং কুরআন-হাদিসে প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি।
কুরআনে ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে যা বলা হয়েছেপবিত্র কুরআনের সুরা আল-কাহফের ৮৩ থেকে ৯৮ নম্বর আয়াতে যুলকারনাইনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এক জনগোষ্ঠী ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যুলকারনাইনের কাছে তাদের থেকে রক্ষার জন্য একটি প্রতিবন্ধক নির্মাণের আবেদন জানায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলল, হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। তাই আমরা কি আপনাকে কিছু অর্থ দেব, যাতে আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেন?’ (সুরা আল-কাহফ: ৯৪)
যুলকারনাইন লোহার বড় বড় খণ্ড দিয়ে প্রতিবন্ধক নির্মাণ করেন এবং সেগুলোর ওপর গলিত তামা ঢেলে দেন। ফলে ইয়াজুজ-মাজুজ সেটি অতিক্রম করতে কিংবা ভেদ করতে সক্ষম হয়নি।
আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তারা সেটির ওপর আরোহণ করতে পারল না এবং সেটি ভেদ করতেও সক্ষম হলো না।’ (সুরা আল-কাহফ: ৯৭)
অন্যদিকে সুরা আল-আম্বিয়ার ৯৬ নম্বর আয়াতে তাদের ভবিষ্যৎ আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।’
তবে কুরআনে তাদের দৈহিক উচ্চতা, চেহারা, কান, চোখ কিংবা শরীরের গঠন সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।
১২০ হাত লম্বা এবং কান দিয়ে বিছানা বানানোর গল্প কতটা সত্য?ইয়াজুজ-মাজুজের দৈহিক গঠন নিয়ে বিভিন্ন তাফসির ও ইতিহাসগ্রন্থে অস্বাভাবিক কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, তাদের একেকটি দল চার লাখ উপদলে বিভক্ত। প্রত্যেক ব্যক্তি এক হাজার পুরুষ সন্তান না দেখে মারা যায় না।
একই বর্ণনায় তাদের তিন ধরনের দৈহিক গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রথম দলের লোকেরা ১২০ হাত উচ্চতার ‘আরজ’ নামের গাছের মতো দীর্ঘাকৃতির। দ্বিতীয় দলের লোকেরা নিজেদের একটি কান বিছানা হিসেবে ব্যবহার করে এবং অন্য কান দিয়ে শরীর ঢেকে রাখে। তাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও অস্বাভাবিক নানা দাবি রয়েছে।
জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) তাঁর ‘আদ-দুররুল মানসুর’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-উক্কাশির সূত্রে হজরত হুজাইফা (রা.)-এর নামে এ ধরনের বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
তবে হাদিসবিশারদদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-উক্কাশি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী নন। ইবনুল জাওজি (রহ.) তাঁর ‘আল-মাওদুআত’ গ্রন্থে তাঁকে মুনকারুল হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আদি (রহ.)-ও তাঁর বর্ণিত এ ধরনের হাদিসকে মুনকার ও বানোয়াট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সুতরাং ইয়াজুজ-মাজুজ ১২০ হাত লম্বা কিংবা নিজেদের কান দিয়ে বিছানা ও কম্বল বানায়—এমন দাবিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্ভরযোগ্য হাদিস হিসেবে প্রচার করার সুযোগ নেই।
ইসরাইলি বর্ণনায় দৈহিক গঠন নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্যইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে বিভিন্ন ইসরাইলি বর্ণনাও তাফসির ও ইতিহাসগ্রন্থে স্থান পেয়েছে। কাব আল-আহবারের (রহ.) নামে বর্ণিত একটি বক্তব্যে তাদের তিন ধরনের দৈহিক গঠনের কথা বলা হয়েছে। একদল দীর্ঘাকৃতির, দ্বিতীয় দল চার হাত লম্বা ও চার হাত চওড়া এবং তৃতীয় দল নিজেদের কান দিয়ে বিছানা ও শরীর ঢাকার ব্যবস্থা করে বলে দাবি করা হয়েছে।
কাব আল-আহবার (রহ.) ছিলেন একজন তাবেঈ। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ইহুদি ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ইসরাইলি সূত্রের বিভিন্ন তথ্য বর্ণিত হয়েছে।
অন্যদিকে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নামে প্রচলিত আরেকটি বর্ণনায় ইয়াজুজ-মাজুজকে অত্যন্ত খর্বাকৃতির বলা হয়েছে। সেখানে কারও উচ্চতা এক বিঘত, কারও দুই বিঘত এবং সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যক্তির উচ্চতা তিন বিঘতের বেশি নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু এ বর্ণনাটিও সহিহ হাদিস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
একই সম্প্রদায়ের উচ্চতা নিয়ে কোথাও ১২০ হাত, কোথাও চার হাত, আবার কোথাও এক থেকে তিন বিঘতের কথা বলা হয়েছে। এসব পরস্পরবিরোধী বর্ণনা যাচাই ছাড়া গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
মুহাম্মদ আবু শাহবাহ (রহ.) তাঁর ‘আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল মাওদুআত ফি কুতুবিত তাফসির’ গ্রন্থে এ ধরনের বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রতিদিন প্রাচীর খননের কাহিনি: হাদিসবিশারদদের মূল্যায়নইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে বহুল প্রচলিত একটি কাহিনি হলো, তারা প্রতিদিন যুলকারনাইনের নির্মিত প্রাচীর খনন করে। একপর্যায়ে প্রাচীর ভেদ করার কাছাকাছি পৌঁছে তাদের নেতা বলে, পরদিন এসে বাকি অংশ খনন করবে। কিন্তু ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলার কারণে পরদিন এসে তারা প্রাচীর আগের মতো অক্ষত দেখতে পায়।
এভাবে দীর্ঘদিন চলার পর একসময় তাদের নেতা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলবে। পরদিন এসে তারা আগের দিনের খনন করা অবস্থায় প্রাচীরটি পাবে এবং সেটি ভেদ করে বেরিয়ে আসবে।
এরপর তারা পৃথিবীতে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। পানির উৎস নিঃশেষ করে ফেলবে এবং আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। পরে আল্লাহ তাদের ঘাড়ে একধরনের ক্ষুদ্র পোকা পাঠাবেন, যার আক্রমণে তারা মারা যাবে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এ কাহিনি ইমাম আহমদ, ইমাম তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ তাঁদের হাদিসগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (মুসনাদে আহমদ: ১০৬৩২; তিরমিজি: ৩১৫৩; ইবনে মাজাহ: ৪০৮০)
ইমাম তিরমিজি বর্ণনাটিকে গরিব বলেছেন এবং এর সনদকে ভালো ও শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে বিখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) এ বর্ণনাটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর সনদ ভালো ও শক্তিশালী হলেও বক্তব্যটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা রয়েছে।
ইবনে কাসিরের মতে, কাহিনিটির সঙ্গে কাব আল-আহবারের সূত্রে বর্ণিত ইসরাইলি কাহিনির মিল রয়েছে। তাঁর ধারণা, আবু হুরায়রা (রা.) হয়তো কাব আল-আহবারের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছিলেন এবং পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর ভুলে তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়ে থাকতে পারে।
তবে এটি ইবনে কাসিরের নিজস্ব বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। অন্যদিকে ইমাম তিরমিজি বর্ণনাটির সনদকে শক্তিশালী বলেছেন। তাই এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মূল্যায়ন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাচীরের অংশ খুলে যাওয়ার কথা সহিহ হাদিসে রয়েছেইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর সম্পর্কে সহিহ বুখারি ও মুসলিমে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস রয়েছে।
হজরত যায়নাব বিনতে জাহশ (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তাঁর চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই! আরবদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য এমন এক অনিষ্টের কারণে, যা নিকটে চলে এসেছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে এতটুকু খুলে দেওয়া হয়েছে।’
এ কথা বলার সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে একটি ছোট বৃত্ত তৈরি করে দেখান।
হজরত যায়নাব (রা.) জানতে চাইলেন, আমাদের মধ্যে নেককার লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন পাপাচার ও অনাচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩৪৬; সহিহ মুসলিম: ২৮৮০)
এ হাদিসে প্রাচীরের সামান্য অংশ খুলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসার কথা বলা হয়নি। তাই এ বর্ণনার সঙ্গে কিয়ামতের আগে তাদের ব্যাপক আবির্ভাবের বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই।
আদম (আ.)-এর বীর্য থেকে ইয়াজুজ-মাজুজের সৃষ্টি—প্রমাণ নেইইয়াজুজ-মাজুজের সৃষ্টি নিয়ে আরও একটি অদ্ভুত কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। এতে দাবি করা হয়, হজরত আদম (আ.) ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নদোষের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর বীর্য মাটিতে মিশে যাওয়ার ফলে ইয়াজুজ-মাজুজের সৃষ্টি হয়।
তবে কুরআন কিংবা নির্ভরযোগ্য হাদিসে এ দাবির কোনো প্রমাণ নেই।
ইবনে কাসির (রহ.) এ ধরনের কাহিনিকে ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, নির্ভরযোগ্য জ্ঞান, যুক্তি কিংবা শরিয়তসম্মত দলিল ছাড়া এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বর্ণনা কিংবা ভিত্তিহীন গল্পের ওপর নির্ভর করে আকিদাগত কোনো বিষয় প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
ভবিষ্যতে ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব ও পরিণতিইয়াজুজ-মাজুজের ভবিষ্যৎ আবির্ভাব সম্পর্কে সহিহ হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ রয়েছে।
হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দাজ্জালের আবির্ভাব ও হজরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এরপর আল্লাহ তাআলা ঈসা (আ.)-কে জানাবেন, এমন এক সম্প্রদায়কে বের করে দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই।
তখন ঈসা (আ.) মুমিনদের নিয়ে তুর পাহাড়ে আশ্রয় নেবেন। ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি তাবারিয়া হ্রদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এর সব পানি পান করে ফেলবে। পরবর্তী দলটি সেখানে এসে বলবে, এখানে একসময় পানি ছিল।
এরপর ঈসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ তাদের ঘাড়ে একধরনের পোকা পাঠাবেন। এর আক্রমণে তারা সবাই মারা যাবে। পরে আল্লাহ বৃষ্টি পাঠাবেন এবং তাদের মৃতদেহ সরিয়ে ফেলবেন। (সহিহ মুসলিম: ২৯৩৭)
এ হাদিসে ইয়াজুজ-মাজুজের বিপুল সংখ্যা ও ব্যাপক বিস্তারের চিত্র পাওয়া যায়। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রমাণিত তথ্য গ্রহণই ইসলামের শিক্ষাইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে যতটুকু তথ্য রয়েছে, একজন মুসলমানের জন্য তা বিশ্বাস করাই জরুরি। এর বাইরে তাদের দৈহিক উচ্চতা, চেহারা, সংখ্যা কিংবা জীবনযাপন নিয়ে প্রচলিত প্রতিটি কাহিনি সত্য বলে গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা নেই।
বিশেষ করে ১২০ হাত লম্বা হওয়া, কান দিয়ে বিছানা ও কম্বল তৈরি করা কিংবা আদম (আ.)-এর বীর্য থেকে সৃষ্টি হওয়ার মতো দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
তবে কিছু বর্ণনা দুর্বল বা বানোয়াট প্রমাণিত হয়েছে বলে ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে সব হাদিস অস্বীকার করাও সঠিক নয়। প্রতিটি বর্ণনার সনদ ও বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো বর্ণনার সনদ ভালো হলেও তার বক্তব্য নিয়ে হাদিসবিশারদদের সমালোচনা থাকতে পারে।
ধর্মীয় বিষয়ে বিস্ময়কর কোনো গল্প শুনেই সেটিকে সত্য মনে করা উচিত নয়। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে কোনো বক্তব্য প্রচারের আগে তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: পবিত্র কুরআন—সুরা আল-কাহফ (৮৩–৯৮), সুরা আল-আম্বিয়া (৯৬); সহিহ বুখারি (৩৩৪৬); সহিহ মুসলিম (২৮৮০, ২৯৩৭); সুনানে তিরমিজি (৩১৫৩); সুনানে ইবনে মাজাহ (৪০৮০); মুসনাদে আহমদ (১০৬৩২); তাফসির ইবনে কাসির (৫/১৯৪); ইবনুল জাওজির আল-মাওদুআত (১/২০৬–২০৭); ইবনে আদির আল-কামিল ফি দুয়াফায়ির রিজাল (৭/৩৬৮–৩৬৯); মুহাম্মদ আবু শাহবাহের আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল মাওদুআত ফি কুতুবিত তাফসির (২৪৫–২৪৮ পৃষ্ঠা)।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক