চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া লোকাল বাসের নিচে চাপা পড়ে মাইশা মুশফিরাত নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামে। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। দুর্ঘটনায় আহত রাজিয়া সুলতানা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী সড়কের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। বাসের নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি কেডিএস লজিস্টিকসের। তবে লরিটির মালিকানা, চালকের পরিচয় ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দায়ীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।
চার দফা দাবিতে মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ
সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও পাশের রেলপথ অবরোধ করেন। এতে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—
১. দুর্ঘটনায় জড়িত লরি ও বাসের চালক এবং মালিককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দ্রুত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ ও গতি নিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন।
৩. নিহত মাইশার পরিবার এবং আহত শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৪. মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শামীম আলম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একটি মিনিবাসকে লরি ধাক্কা দিলে সেটি দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন বলেন, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়ক ও রেলপথে অবরোধ চলছিল।
এদিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), স্থানীয় সার্কেল কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। অবরোধ প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান তাঁরা। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবিতে অনড় ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক