বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩১ দুপুর
  • ২৩৮৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পাঁচ বছরে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। সম্ভাব্য এ বিনিয়োগের আওতায় গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে এ পরিমাণ বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে জাপান।

চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও থাকতে পারে। জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি পক্ষ বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে যুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে গাড়ি উৎপাদন, অন্যান্য শিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্পদক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগের প্রকৃত পরিমাণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের ওপর।

তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক আজ

সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাইকা, জেবিআইসি ও বড় কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এ ছাড়া মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামেও মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন ও প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্য

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে শিল্পায়ন, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগের উদ্যোগটি চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেয় কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad