শুক্রবার দেওয়া পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ এবং ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদের আওতায় ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। বয়সের ভিত্তিতে শিশুদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
আদালত বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাধীনতা রক্ষা—এ দুটির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারে সার্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিবর্তে অভিভাবকদের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অবৈধ ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেও একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি জাতীয় ডেটাবেস তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে ইউআরএল তালিকাভুক্তকরণ, ডিজিটাল শনাক্তকারী তথ্যের ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিকা ও কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তারও সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে আদালত বলেছে, ইন্টারনেটে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্টের কোনো স্থান থাকতে পারে না।
সূত্র: এনডিটিভি

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক