ডেঙ্গু ঠেকাতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ দুপুর
  • ৬১৭৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg প্রধানমন্ত্রী
পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণে নাগরিকদের দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ; হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়নে সাত দিনের সময়সীমা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার সকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। প্রতিবছর এ রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, মৃত্যুও ঘটে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।”

নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, স্কাউট, গার্ল গাইড বা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হওয়া-না হওয়ার বিষয়টি মুখ্য নয়; সবাই দেশের নাগরিক এবং দেশের ভবিষ্যৎ। নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার।

যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাঁকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জায়গা থেকে ডাস্টবিন চুরি হচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব বন্ধে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

জন্মদিনে গাছ লাগানোর পরামর্শ

পরিবেশ রক্ষা ও নগরের তাপমাত্রা কমাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, নিজের, ভাইবোনের কিংবা দাদা-দাদি ও নানা-নানির জন্মদিনে গাছ লাগানো যেতে পারে। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রামের বাড়িতে এসব গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

রাজধানীতে সবুজের ঘাটতি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।

তিনি বলেন, গাছ বাড়লে মানুষ আরও স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারবে। সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ করলে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে সাত দিনের সময়

ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শন করেন। দিনের শুরুতে তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।

হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।

পরে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের কাছেও নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা চান তারেক রহমান। শিক্ষার্থীরা তাঁর আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মতে, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার পথ তৈরি করতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad