রাজধানীর মিরপুরে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের কাছে বিক্রির জন্য রাখা ১০৫টি সুইচ গিয়ার চাকু এবং একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পৃথক দুই অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় আরও একজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
কিশোর গ্যাংয়ের কাছে বিক্রির জন্য ১০৫ চাকুডিএমপি জানায়, সোমবার ৫ অক্টোবর শাহআলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে সুইচ গিয়ার চাকু বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালায় ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল। ঘটনাস্থল থেকে মো. রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার সঙ্গে থাকা একটি বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে বিভিন্ন আকার ও রঙের ১০৫টি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের কাছে এসব চাকু বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন।
পরে তাকে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ২একই দিন পল্লবীর বাউনিয়াবাদ আবাসিক এলাকায় অস্ত্রধারীদের অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালায় ডিবি মিরপুর বিভাগ। অভিযানে মো. জনি (২৮) ও মো. পারভেজকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বাবু নামে আরও একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির ভাষ্য, জনির প্যান্টের পেছনের কোমর থেকে একটি সচল ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ওই ম্যাগাজিনে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছিল। পারভেজের পকেট থেকে উদ্ধার করা অপর ম্যাগাজিনে KF 7.65-এর তিন রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্র বহনের দাবিডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পলাতক বাবুর কাছেও একটি অস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দখল ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন বলেও দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবির ধারণা, আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যেই অস্ত্র নিয়ে তারা বাউনিয়াবাদ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। পলাতক বাবুকে গ্রেপ্তার এবং তার কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ ও ডিবি মিরপুর বিভাগ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক