অভিযোগের একটি অনুলিপি আমার দেশ-এর হাতে এসেছে। অভিযোগ তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি মাহবুব আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন বলে তাঁর সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানা গেছে।
সম্প্রতি রুবেল হোসেন নামের এক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করেন। আবেদনে বলা হয়, ফতুল্লা মডেল থানার প্রায় ৩০০ গজের মধ্যে মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ২০টি অবৈধ চোরাই তেলের দোকান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, থানার এসআই ও এএসআইদের বদলি ঠেকানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে জহির নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে থানার মুন্সি পদে পদায়নের জন্য এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
লিখিত আবেদনে ধর্ষণ মামলার আপস-মীমাংসার ক্ষেত্রে বাদীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ছাড়া রাসেল নামের কথিত এক মাদক কারবারিকে আটক করে দুই দফায় মোট আট লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। নদী থেকে মাটি কাটায় জড়িত ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের কাছ থেকেও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো কয়েকটি ছবিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা গেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের কয়েকটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব ছবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনসিপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় বিতর্কসম্প্রতি ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আলোচনায় আসেন ওসি মাহবুব আলম।
নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান গাফফারি অভিযোগ করেন, বক্তাবলীতে এনসিপির ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা নিতে প্রথমে অনাগ্রহ দেখান ওসি। পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ দলটির নেতারা থানায় গেলে রাত প্রায় ১টার দিকে মামলা নেওয়া হয়।
গাফফারি বলেন, একজন থানার ওসির মূল দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সবার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করা। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রকাশ্যে প্রশংসা করা কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মতো আচরণ পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
বিএনপি নেতাদের প্রশংসার অভিযোগগত বৃহস্পতিবার পাগলা বাজার এলাকায় যানজট নিরসন কমিটির পরিচিতি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ওসি মাহবুব আলম বিএনপির নেতাদের প্রশংসা করেছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে সবার প্রতি সমান আচরণ করাই তাঁর দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীর রাজনৈতিক ভূমিকার প্রকাশ্য প্রশংসা পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
অতীতের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগপুলিশের একটি সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ওসি মাহবুব আলম তৎকালীন ডিআইজি নুরে আলম মিনারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে ওসি মাহবুব আলমের সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে একজন জানান, ‘ওসি স্যার ছুটিতে আছেন। তাঁকে সোমবার পাওয়া যাবে।’

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক