বগুড়ায় সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি-তদবিরের অভিযোগ

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ দুপুর
  • ১১১৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
১৫৮ ডিলার পদে ১,২৬৬ আবেদন, আট শতাধিক বাদ পড়ার দাবি

বগুড়ায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। জেলার সিটি করপোরেশন ও ১৩ উপজেলায় ১৫৮টি ডিলার পদে নিয়োগের জন্য ১ হাজার ২৬৬ জন আবেদন করলেও যাচাই-বাছাই শেষে আট শতাধিক আবেদনকারী বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাদ পড়ার কারণ তাদের জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে স্বচ্ছতা ছিল না। প্রতিটি পদের বিপরীতে তিনজনের করে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় কারা কী যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থান পেয়েছেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালীদের সুপারিশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন আবেদনকারী।

তাদের আরও অভিযোগ, ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আগ্রহ বেশি হলেও প্রকৃত ব্যবসায়ীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এরই মধ্যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ পেতে অনেকে তদবির করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা পর্যায়েই তালিকা তৈরির অভিযোগ

একাধিক আবেদনকারী অভিযোগ করেন, উপজেলা পর্যায়ে আগেই একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। ওই তালিকার বাইরে থাকা অনেক আবেদনকারীকে যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য আবেদন ফি এবং ১০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সিটি করপোরেশনে একটি পদের বিপরীতে ১৬টি আবেদন পড়েছে। বগুড়া সদরে ১১ পদের বিপরীতে ৭৪, শাজাহানপুরে ৯টির বিপরীতে ১১৪, শেরপুরে ১১টির বিপরীতে ১১৮, ধুনটে ১৩টির বিপরীতে ১৬৪, গাবতলীতে ১৯টির বিপরীতে ১৬২, সারিয়াকান্দিতে ২১টির বিপরীতে ১৬৩, সোনাতলায় ৮টির বিপরীতে ৮১, শিবগঞ্জে ১৬টির বিপরীতে ৪৯, মোকামতলা নবগঠিত এলাকায় ১৮টির বিপরীতে ৩৭, কাহালুতে ১০টির বিপরীতে ১০০, দুপচাঁচিয়ায় ৮টির বিপরীতে ৭২, আদমদীঘিতে ৭টির বিপরীতে ৬২ এবং নন্দীগ্রামে ৬টির বিপরীতে ৫৪টি আবেদন জমা পড়ে।

তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা

আবেদনকারীদের ভাষ্য, উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি পদের বিপরীতে তিনজনের নাম জেলা কমিটিতে পাঠিয়েছে। এতে অনেক আবেদনকারী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী বাদ পড়েছেন। তবে তালিকা তৈরির মানদণ্ড সম্পর্কে তাদের স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সার ডিলার নিয়োগে গঠিত ১২ সদস্যের জেলা কমিটিতে রয়েছেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, যুগ্ম পরিচালক (সার), উপপরিচালক (বীজ বিপণন), বিসিআইসি বাফার গুদামের ইনচার্জ, বগুড়া সদর বিএনপি সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবং কৃষক দলের নেতা এনামুল হক সুমন।

কমিটির সদস্য এনামুল হক সুমন বলেন, উপজেলা কমিটিগুলো প্রতিটি পদের বিপরীতে তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করে জেলা কমিটিতে পাঠিয়েছে। জেলা কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

আবেদনকারীদের ক্ষোভ

ধুনট উপজেলার এক আবেদনকারী বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছি। এখন কর্মী হয়ে নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি; কিন্তু কেউ কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।’

শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মোশারফ হোসেন, আব্দুস ছালাম, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের আব্দুল হাই সিদ্দিকী হেলাল এবং সুঘাট ইউনিয়নের রনি খন্দকার সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। তারা জানান, জেলা কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত তালিকা পাঠিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে তাদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে টিকেছে কি না, সেটি এখনো জানানো হয়নি।

‘এমপি কোটা’র অভিযোগ

আদমদীঘি উপজেলার বিএনপি নেতা টিকন অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের সুপারিশ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কারও কথা শোনা হচ্ছে না। সাতটি পদের প্রতিটিতে ‘এমপি কোটা’ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলার বিএনপি নেতা নূর আজম বাবুও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার দাবি, সংসদ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি কারা যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন, সেটিও জানানো হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও উপপরিচালক সোহেল শামসুদ্দিন ফিরোজ বলেন, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে গত বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকা নিয়ে বেশ কিছু আপত্তি উঠেছিল। বিভিন্ন নেতার পক্ষ থেকে প্রতিদিনই তদবির আসছিল। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা বিষয়টি তদারকি করেছেন।

বিভিন্ন উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই যাচাই-বাছাইয়ের সময় কম-বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জেলা কমিটির সদস্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad