সোমবার ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমড়াতলী ইউনিয়নের তৈলকুপি, শালুকমুড়া, ভুবনঘর, ইছারপাড়, কৃষ্ণপুর ও রামনগর মৌজার শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন। তাঁরা আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র রাখার দাবি জানান।
সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়ে আসছে। ছয়টি মৌজার মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে কেন্দ্রটি প্রায় চার হাজার ভোটারের জন্য সুবিধাজনক। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রটি ইউনিয়নের সীমানার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত আবুল হাসেম আব্বাসীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। এতে দূরবর্তী এলাকার ভোটারদের যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়ে যায়।
তাঁর দাবি, পরে কেন্দ্রটি আবার ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও একটি বিশেষ মহল সেটি পুনরায় স্থানান্তরের চেষ্টা করছে।
সাত কক্ষেই সম্ভব ভোটগ্রহণসমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি ভবনে মোট ১২টি কক্ষ রয়েছে। ভোটকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন মাত্র সাতটি কক্ষ। বিদ্যালয়টির পুরো সীমানা প্রাচীরঘেরা হওয়ায় নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি উপযোগী। ফলে নারী, প্রতিবন্ধীসহ সব শ্রেণির ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।
অন্যদিকে আবুল হাসেম আব্বাসীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে বক্তারা দাবি করেন।
স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগসমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃষ্ণপুর ও ভুবনঘরের কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ভোটকেন্দ্রটি স্থানান্তরের তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এতে নির্দিষ্ট একটি এলাকার সুবিধা হলেও ছয় মৌজার সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে দুর্ভোগ বাড়বে।
কেন্দ্র স্থানান্তরের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
সমাবেশে মনিরুল আলম, সেলিম, ওবায়েদ, কাশেম, হিরণ, তারু মিয়া, মোস্তফা, স্বপন, মিন্টু মাওলানা, কাজল, মো. সাইফুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ থেকে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে পুনর্বহাল রেখে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক