সাত বছরে কমিউনিটি ব্যাংক, নতুন দুই ঋণপণ্য উদ্বোধন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ বিকাল
  • ৩৭৫৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
‘Transform, Growth & Sustainability’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। সাত বছরের অর্জন ও অভিজ্ঞতার আলোকে প্রযুক্তিনির্ভর, গ্রাহককেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শেয়ারহোল্ডার, করপোরেট ক্লায়েন্ট ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবর্তন, প্রবৃদ্ধি ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের অঙ্গীকার

স্বাগত বক্তব্যে কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘Transform, Growth & Sustainability’ শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নয়; এটি আগামী দিনের ব্যাংকের কৌশলগত অঙ্গীকার। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি চিন্তাধারা, কাজের পদ্ধতি, সেবার সংস্কৃতি এবং গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য শুধু ব্যবসার পরিধি বাড়ানো নয়; ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রাহকের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান আরও বিস্তৃত করাও এর অংশ। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যবসা ও দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি হিসেবে টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

মানুষের আস্থা অর্জনই ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিউনিটি ব্যাংকের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান। তিনি ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা ও সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গ্রাহকসেবা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা।

সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রমকে আরও জনকল্যাণমুখী করার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) কার্যক্রম যেন আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখে।

প্রযুক্তি ও গ্রাহকের পরিবর্তিত চাহিদায় গুরুত্ব

সভাপতির বক্তব্যে কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিকনির্দেশনা এবং গ্রাহক ও স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শ্রম, সততা, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, গ্রাহকের পরিবর্তিত প্রত্যাশা এবং অর্থনীতির নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাংককে আরও দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি (ফিন্যান্স) মো. আকরাম হোসেন এবং স্বতন্ত্র পরিচালক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান বক্তব্য দেন। তাঁরা সুশাসন, দায়িত্বশীল ব্যাংকিং, আর্থিক শৃঙ্খলা, গ্রাহকসেবা ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা তুলে ধরেন।

চালু হলো দুই নতুন ঋণপণ্য

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের দুটি নতুন পণ্য—‘Community Bike Loan’ ও ‘Community Swapner Bari’—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের এএসআই থেকে ইন্সপেক্টর এবং সমমর্যাদার নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘Community Bike Loan’। ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক চলাচলের প্রয়োজন মেটাতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য এ ঋণসুবিধা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মানুষের নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়নে চালু করা হয়েছে ‘Community Swapner Bari’ আবাসন ঋণসুবিধা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন দুই পণ্য গ্রাহকের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সমাধান দেওয়ার উদ্যোগের অংশ।

পুরস্কার পেলেন সেরা করপোরেট ক্লায়েন্ট ও কর্মীরা

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেরা করপোরেট ক্লায়েন্ট, সেরা ব্রাঞ্চ/সাব-ব্রাঞ্চ এবং সেরা কর্মী হিসেবে নির্বাচিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি এ. কে. এম. আওলাদ হোসেন, খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সরদার নূরুল আমিন, কাজী মো. ফজলুল করিম, মো. আহসান হাবীব পলাশ, মো. কামরুল আহসানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এ ছাড়া ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার, মো. আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, আহম্মদ মুইদ, খন্দকার শামীমা ইয়াছমিন, কামরুল হাসান তালুকদার, স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ রফিকুল হক ও মোহাম্মদ তফাজ্জুল হোসেনসহ ব্যাংকের গ্রাহক, করপোরেট ক্লায়েন্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad