জলমহাল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫০

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ বিকাল
  • ২৯৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহালের ভোগদখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়াবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ জলমহালকে কেন্দ্র করে গত বছরও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে থানায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করে।

সংঘর্ষে আতঙ্ক

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে বিলমাকশা জলমহাল নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে আখড়াবাজারসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের অনেকে পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন অভিযোগ করেন, বিলমাকশা জলমহালটি গত বছর তাঁরা ইজারা নিয়েছিলেন এবং চলতি বছরও তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এতে বাধা সৃষ্টি করছেন। তাঁর দাবি, শুক্রবার সাঈদ আহমদের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ বলেন, শাহিনের সমর্থকেরাই প্রথমে তাঁর লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, বিলমাকশা জলমহাল ইজারা নিয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। এস এম শাহিন অতীতে দলের মিছিল-মিটিংয়ে ছিলেন না এবং দলের পদও ব্যবহার করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর কিছু ‘নব্য হাইব্রিড’ সন্ত্রাসীকে নিয়ে শাহিন দলের মধ্যে বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad