ভেরিফিকেশনের ফাঁদে সুনামগঞ্জে স্বপ্নভঙ্গ ১২০ মেধাবী শিক্ষকের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ দুপুর
  • ৩২৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও সুনামগঞ্জের ১২০ প্রার্থীর নিয়োগ আটকে গেছে। এনএসআই ও ডিএসবি পুলিশের ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।

শনিবার জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান তারা।

ভুক্তভোগী প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও প্রায় আট মাস ধরে তারা নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। এখন চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নাম না থাকায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের দাবি, অনেকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেই এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই।

তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান বলেন, ২০২১ সালে এমসি কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন তিনি। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর আট মাস ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর দাবি, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা থানায় মামলা-জিডি নেই। এরপরও নিয়োগপত্রে নাম না থাকায় তিনি হতাশ হয়েছেন।

একই গ্রামের মহসিন মিয়া সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স করেছেন। পিতামাতাহীন মহসিন টিউশনি করে পরিবার চালান। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাঁর নাম বাদ পড়েছে জানতে পেরে তিনি হতাশ বলে জানান।

শান্তিগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামের সামন্ত কুমার দাস জানান, উপজেলা পর্যায়ের মেধাতালিকায় তিনি নবম ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা মামলা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ তালিকায় তাঁর নাম নেই।

১২০ জনের নিয়োগ আপাতত স্থগিত

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, জেলায় মোট ৬৩৫টি শিক্ষক পদের বিপরীতে প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান বলেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন বাদ পড়ার বিষয়টি প্রশাসন অবগত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন।

তিনি আরও বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়সংগত অধিকারের পক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু আইনি সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করা হবে। দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad