এয়ারবাস কেনা ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ইঙ্গিত: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ বিকাল
  • ৪৯৯৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এয়ারবাস কেনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তাঁর মতে, এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত শুধু উড়োজাহাজ কেনাবেচার বিষয় নয়; এর সঙ্গে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের প্রশ্নও জড়িত।

মঙ্গলবার ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’-এ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্ক নির্ধারণে এয়ারবাস ইস্যুতে ঢাকার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় অর্ধেকই ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হয়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশের জন্যও বড় স্বার্থের বিষয়।

তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয়। ফ্রান্স কিংবা ইউরোপ কোনো সম্পর্ক চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয়। বরং বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে ইউরোপ সত্যিকারের আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়। আর এ অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এয়ারবাস গুরুত্বপূর্ণ।

‘শুধু উড়োজাহাজ বিক্রি নয়, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব’

এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১০টি উড়োজাহাজের চুক্তি হয়তো খুব বড় কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নয়। কিন্তু ইউরোপের কাছে এর গুরুত্ব আরও বেশি। এর মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যাওয়ার আলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয় যে শুধু এয়ারবাস বিক্রি করা হলো, এরপর সম্পর্কের ইতি। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার একটি প্রক্রিয়া।

পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপ প্রধান অংশীদার

বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ইউরোপের অবস্থান তুলে ধরে জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ তৈরি পোশাক রপ্তানি হলেও ইউরোপে যায় ৪৮ শতাংশ। যুক্তরাজ্যকে হিসাবের মধ্যে ধরলে এ হার আরও বাড়ে।

তিনি বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার। বাংলাদেশের বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় ইউরোপ সবসময় অভিন্ন স্বার্থের জায়গা থেকে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়টি তুলে ধরে। বাংলাদেশের এমন নির্ভরযোগ্য ও আগ্রহী অংশীদার রয়েছে, যে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়।

এয়ারবাস নিয়ে আগ্রহের পেছনে ‘কারিগরি কারণ’

বিমানের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। তৎকালীন সরকার শেষ দিকে এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিল।

তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও বোয়িংয়ের সঙ্গে এগিয়ে যায় এবং দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি করে।

এর পরও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের আলোচনার সূত্রপাত প্রসঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, মিশ্র বহরের সুবিধা বিবেচনা করেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ ছিল না; ছিল কারিগরি কারণ।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক বড় বিমান সংস্থার বহরে এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই ধরনের উড়োজাহাজই রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রেও দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ রাখার সুবিধা বিবেচনা করা যেতে পারে।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্ব বিবেচনা করে আলোচনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিমানের বহরে এয়ারবাস থাকা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক হতে পারে।

দূরপাল্লার উড়োজাহাজের সক্ষমতার উদাহরণ

এয়ারবাসের পক্ষে কারিগরি যুক্তি তুলে ধরে জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তাঁর দাবি, ওই সক্ষমতার উড়োজাহাজটি বোয়িং নয়, এয়ারবাসের।

তিনি বলেন, বিশ্বের শত শত বিমান সংস্থা এয়ারবাস ব্যবহার করছে। ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহের পেছনে যৌক্তিক ও কারিগরি কারণ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংও কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, যেগুলোর সরবরাহ ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে হতে পারে। এটি তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনো এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহী এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

‘অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়’

ফ্রান্স বা ইউরোপ বাংলাদেশকে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ফ্রান্স ও ইউরোপ ‘আমাদের’ ও ‘তাদের’ মধ্য থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার কথা বলে না। ইউরোপ অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে, আর অংশীদারত্বের অর্থ হলো অন্তর্ভুক্তি, কাউকে বাদ দেওয়া নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি মনে করে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে এগোনো ভালো হবে না, সেটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত। একইভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোও যদি মনে করে তারা এফটিএ চায় না, সেটিও তাদের সিদ্ধান্ত। তবে ঢাকা ইউরোপকে কী বার্তা দিচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad