আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নিজেদের মালিকানাধীন গণপরিবহনে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, এর দায় সরকারের ওপর চাপানো এবং বিমার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলগোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নাশকতাকারীরা রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল নিতে পারে। অর্থাৎ, দ্রুত কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। এসব এলাকার সঙ্গে রাজধানীর বাইরে যাতায়াতের একাধিক পথ এবং দ্রুত আত্মগোপনের সুযোগ থাকায় পুলিশ সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
পূর্বাঞ্চলের ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও এবং পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের শেষ অংশে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, ককটেল নিক্ষেপের পর গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ এবং বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে রেলপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ কারণে রেলস্টেশন ও রেলপথের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
কমলাপুরের ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারসম্প্রতি রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের পরদিন একই স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগিতে আগুন লাগে। ২০ সেপ্টেম্বর রাতে আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনার পরপরই আগুনটি নাশকতা নাকি অন্য কোনো কারণে—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।
রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, রেলস্টেশন ও রেলপথের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কমলাপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
বিশেষ টিম মোতায়েনডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অর্থ জোগান ও ইন্ধনের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করে দেশের ভেতরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ পাঠাচ্ছেন—এমন তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। অর্থের জোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলে নজরদারিডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গণপরিবহনে আগুন ও ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হতে পারে। রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম সীমানার এলাকাগুলোতে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মিরপুর ও পল্লবীর মতো জনবহুল এলাকায় গণপরিবহনের অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নাশকতা ঘটিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার বিষয়টিও পুলিশের নজরে রয়েছে বলে তিনি জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক