ছাত্র রাজনীতি থেকে সংসদ নির্বাচন—সেবার দর্শনে অটল এক সংগঠক

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ রাত
  • ৭৭৫৬২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg সিরাজগঞ্জ- ২আসনে জাকের পার্টির এমপি প্রার্থী রুবেল।


রাজনীতি যখন ক্ষমতার অঙ্কে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের মনে জন্ম নেয় এক ধরনের হতাশা— আমাদের কথা কে বলবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর–কামারখন্দ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন মোঃ আব্দুর রুবেল সরকার।


তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতির মূল শক্তি ক্ষমতা নয়—মানুষ।


গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরপরই আলোচনায় আসে তার নাম। কারণ, তিনি শুধুই একজন প্রার্থী নন—তিনি দীর্ঘদিনের সংগঠক, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এক পরিশ্রমী নেতা, যিনি রাজনীতিকে দেখেন সেবার জায়গা থেকে।


মোঃ আব্দুর রুবেল সরকার জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ছাত্র রাজনীতির সেই সময় থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের সুখ–দুঃখ, দাবি–দাওয়া ও বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পোস্টার–ব্যানার নয়, মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলার রাজনীতিই তাকে গড়ে তুলেছে।


বর্তমানে তিনি পাবনা–সিরাজগঞ্জ সাংগঠনিক বিভাগের সভাপতি এবং জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব তৈরি এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় তার ভূমিকা নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি উপলব্ধি করেছেন—টেবিলের রাজনীতি দিয়ে নয়, মাঠের রাজনীতি দিয়েই মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়।


নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর জাতীয় বাজেট হয় সাত থেকে আট লক্ষ কোটি টাকা। প্রতিটি জেলা গড়ে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা পায়। কিন্তু বাস্তবে আমরা কতটুকু উন্নয়ন দেখি?


আমার মতে, সমস্যা টাকার অভাবে নয়—সমস্যা সুষম বণ্টন ও গুণগত বাস্তবায়নের অভাবে। আমি নির্বাচিত হলে উপজেলা ও এলাকার বাজেট যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও কর্মসংস্থানে সত্যিকার অর্থেই কাজে লাগে, সেই নিশ্চয়তা দিতে চাই। উন্নয়ন যেন কাগজে নয়, মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হয়—এই লক্ষ্যই আমার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।


এছাড়াও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে তিনি বলেন রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবিকতা। রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা। জনগণ তাদের ভোটে আমাকে নির্বাচিত করলে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা, বাসস্থান, নিরাপদ জীবন—এই বিষয়গুলোকে আমি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখবো।


তিনি আরো বলেন, আমি এমন একটি এলাকা গড়তে চাই, যেখানে কেউ চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাবে না, কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না।


তিনি তার নির্বাচনী এলাকাকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার স্বপ্ন দেখেন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।


তরুণ প্রজন্ম নিয়ে তিনি মনেকরেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো তরুণ সমাজ। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগের অভাবে তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি এই অবস্থাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, সামাজিক সংকট হিসেবে দেখার আশ্বাস দেন।


তার লক্ষ্য—মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা, খেলাধুলা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তার বিশ্বাস, তরুণরা যদি সঠিক পথে থাকে, তবে সমাজ আপনাতেই বদলে যাবে।


মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি দালালমুক্ত প্রশাসন নিয়ে তিনি বলেন, ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিস, থানা কিংবা অন্যান্য সরকারি দপ্তর—এসব জায়গায় দালাল নির্ভরতা সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ। নির্বাচিত এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবো।


সরকারি অফিস মানেই যেন ভয়ের জায়গা না হয়। জনগণ যেন সরাসরি সেবা পায়, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কাজ করতে পারে—এই পরিবেশ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। প্রশাসন হবে জনগণের সেবক, দালালের আশ্রয়স্থল নয়—এটাই হবে আমার অঙ্গীকার।


আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তার অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চান এমন একটি সমাজ, যেখানে পুলিশ মানেই ভয় নয়—নিরাপত্তার প্রতীক। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি তিনি পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান।


রাজনীতির প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে রুবেল সরকার একটি ভিন্ন অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে জনগণকে আমার কাছে আসতে হবে না, আমিই জনগণের কাছে যাব। এই কথার মধ্যেই ফুটে ওঠে তার রাজনীতির মূল দর্শন।


উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ সদর–কামারখন্দ আসনকে তিনি আধুনিক, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তার রাজনীতি উন্নয়নের পাশাপাশি মূল্যবোধের রাজনীতি—যেখানে মানুষই হবে সব সিদ্ধান্তের কেন্দ্র।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad