সংকটে ব্যাংক খাত, আট বছর ধরে ঝুলছে নতুন ব্যাংকের আবেদন

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ দুপুর
  • ৯৮৮৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দেশের ব্যাংকিং খাত যখন খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও আস্থার ঘাটতিতে চাপে রয়েছে, তখন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে নতুন একটি তফসিলি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি ও লাইসেন্স দেওয়ার দাবি উঠেছে। ‘এএফসি ব্যাংক লিমিটেড’ নামে প্রস্তাবিত ব্যাংকটির আবেদন প্রায় আট বছর ধরে ঝুলে আছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

তবে বর্তমান আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ইতোমধ্যে অনেক বেশি। এ অবস্থায় নতুন ব্যাংক চালুর পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যাংকগুলোর সুশাসন, মূলধন ও তারল্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করাই বেশি জরুরি।

নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, দেশে নতুন করে ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। কারও প্রয়োজন হলে বিদ্যমান কোনো ব্যাংক কিনে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শহিদুল ইসলাম জাহীদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দুরবস্থায় মানুষ যখন এ খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তখন নতুন ব্যাংক অনুমোদনের পেছনে কোনো অর্থনৈতিক যুক্তি নেই।

তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় যত্রতত্র ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার ফলেই বর্তমান ভঙ্গুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় পুরো খাত সংকটে পড়েছে। তাঁর আশা, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও গণতান্ত্রিক সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটবে না এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্ক ও বাস্তবসম্মত অবস্থান নেবে।

আট বছর ধরে ঝুলছে আবেদন

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘এএফসি ব্যাংক লিমিটেড’ নামে একটি বিশেষায়িত তফসিলি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর পাটওয়ারী।

চিঠিতে তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন। প্রচলিত ব্যাংকগুলোর সেবা এখনো দেশের বৃহৎ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

উদ্যোক্তার প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন ব্যাংকটি প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ ও ব্যাংকিং সেবা দিতে পারে। পাশাপাশি গবাদিপশু পালন, পোলট্রি, মৎস্য খামার ও কুটিরশিল্পে যুক্তদের মূলধনের সুযোগ তৈরি, প্রবাসফেরত কর্মীদের সঞ্চিত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ এবং বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনার কথা বলা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে দাবি করা হয়েছে।

২০১৬ সালে নিষ্পত্তির নির্দেশ

চিঠিতে হুমায়ুন কবীর পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নেওয়া প্রস্তাবিত ব্যাংকের ফাইল বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, এ দীর্ঘসূত্রতা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সরকারের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংক অনুমোদন কতটা সুফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad