শাপলা গণহত্যার ছবি সংগ্রহশালায়, ডাকসু নেতাদের প্রশংসায় কওমি নেতারা

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ রাত
  • ১৯৩৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায়। সেখানে শাপলা চত্বরের ঘটনা ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের বিভিন্ন ছবিও প্রদর্শন করা হয়েছে।

ডাকসুর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কওমি অঙ্গনের কয়েকজন আলেম ও নেতা। তারা বলছেন, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচারের দাবিও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী ডাকসু নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে। তার ভাষ্য, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা সম্পর্কে দেশের মানুষের জানার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন উল্লেখ করে তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শাপলা সেকশনের গবেষক মুহিম মাহফুজ বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালায় শাপলা আন্দোলনের স্মৃতিস্মারক যুক্ত করা বাংলাদেশের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গভাবে দেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তার মতে, শাপলার ইতিহাস ছাড়া জুলাইয়ের ইতিহাসও পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝা সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের ডাকসু নেতৃত্বও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি বলেন, ডাকসুর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাবলির আলোকচিত্র সংরক্ষণ তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।

শাপলা স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামাল উদ্দিন বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালায় ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আলোকচিত্র প্রদর্শন এবং শাপলা স্মৃতি সংসদের প্রকাশনা ‘শহীদনামা’ সংরক্ষণ করায় তারা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে শাপলার ইতিহাস ও স্মৃতি নিয়ে আরও আলোচনা, প্রদর্শনী এবং সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রত্যাশা জানান তিনি।

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী ২০১৩ সালের হেফাজতের আন্দোলনকে ঐতিহাসিক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশ, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে ওই আন্দোলন হয়েছিল। ডাকসুর সংগ্রহশালায় এর স্মৃতি সংরক্ষণকে তিনি দায়িত্বশীল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করে আসছে। তার দাবি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে হেফাজতের ভূমিকা রয়েছে। তাই এসব আন্দোলনের ইতিহাস রচনায় হেফাজতের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad