ইউসিবির ২৫ কোটি টাকা ঋণ মামলা জাবেদ-রুখমিলার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরও দুজন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ দুপুর
  • ৫৩৮৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে ওই দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোকাররম হোসাইন। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবির পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এসব আপত্তি সত্ত্বেও তৎকালীন চেয়ারম্যান রুখমিলা জামানের প্রভাব এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ঋণটি অনুমোদন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

তদন্তে সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে ইউসিবির ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। দুদকের ভাষ্য, ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামান থাকলেও সাইফুজ্জামান চৌধুরী কার্যত ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন।

ঋণের বড় অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানের দেনা পরিশোধে

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে নেওয়া ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পুরোনো দেনা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তার পরিবর্তে ঋণের বড় অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বাকি প্রায় ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা নগদে উত্তোলন করা হয়। পরে ওই অর্থ হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

২৩ বস্তা নথি উদ্ধারের দাবি

মামলার তদন্তকালে রুখমিলা জামানের গাড়িচালকের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটির অভিযোগপত্রে এসব নথি ও আলামতকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের দাবি, উদ্ধার করা নথিপত্র যাচাই করে বিদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব নথিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট সম্পদ কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুখমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুখমিলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে দুদকের তথ্যমতে, ওই নিষেধাজ্ঞার আগেই তারা আইন ফাঁকি দিয়ে বিদেশে চলে যান।

দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন জানান, গত ৪ এপ্রিল থেকে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ পর্যন্ত ৪৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। বুধবার আরও দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগপত্র ও পিপি মোকাররম হোসাইনের বক্তব্য; চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের কার্যক্রম।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad