বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের বক্তব্য শোনা এবং তা মুখস্থ করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। বিশ্বায়নের এ সময়ে শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান ও শিল্পের কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।
চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পখাতের কার্যকর যোগসূত্র তৈরি করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কোন ক্ষেত্রে দক্ষ হবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং উদ্ভাবনে কীভাবে ভূমিকা রাখবে—এসব বিষয়ও শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষা কিংবা উদ্ভাবনের দক্ষতা দিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সক্ষমতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।
এআইনির্ভর ভবিষ্যতের প্রস্তুতিকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসঙ্গে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শিক্ষাব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তিকে যুক্ত করার বিষয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশের তরুণদেরও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাঁর ভাষায়, বিশ্বে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মেধা।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন থেকেই ভাবার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পড়াশোনা শেষ করার পর নয়, শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ, দেশ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নারী শিক্ষা ও ছাত্ররাজনীতিনারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কার নারী শিক্ষাবিষয়ক উপবৃত্তি কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।
নিজের বিদেশে পড়াশোনা ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র নেতৃত্বে আদর্শ, নৈতিকতা ও শালীনতা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা যাতে ক্যাম্পাসে নিরাপদ বোধ করেন, সে জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক ধারার নেতৃত্ব তরুণদেরই দিতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের ভাবতে হবে।
জবি শাখা ছাত্রদল ‘আজ নবীন, আগামী দিনের নেতৃত্ব’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কর্মসূচিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণ, আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তথ্যসূত্র: আমার দেশ অনলাইন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক