নাবলুস গভর্নরেটের ইরাক আল-তাইয়েহ এলাকার বাসিন্দা দানা জুদেহকে প্রায় ছয় মাস আগে প্রশাসনিক আটকাদেশের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যবস্থায় কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই তাকে আটক রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার তার আটকাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তা নবায়ন করা হলে তার মুক্তি আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
জুদেহর পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার, প্রশাসনিকভাবে আটক রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনায় মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সনদের লঙ্ঘন।
সন্তান প্রসবের ঘটনায় জুদেহর পরিবার ও অধিকারকর্মীরা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ও কারা প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। তারা বিশেষ করে গর্ভবতী বন্দিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেমন কারাগারে প্রায় ৮৮ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দি রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বন্দিদের কঠিন পরিস্থিতিতে রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে চিকিৎসায় অবহেলা, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব, দমন-পীড়ন, মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় অনুশীলনে বাধা, একাকী বন্দিত্ব এবং দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দি ও সাবেক বন্দিদের বিষয়ক কমিশন নারী বন্দিদের নিরাপত্তার জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে গর্ভবতী নারী, অসুস্থ বন্দি, অপ্রাপ্তবয়স্ক, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী বন্দিদের পরিস্থিতির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে কারাগারগুলোতে বন্দিদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। বন্দিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগেরও দাবি জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক