কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ছয়টি ব্যাংকের কাছে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। ওই দিন ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। মঙ্গলবার তা বেড়ে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সায় উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে।
১৪ মাস ধরে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকবৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারের চাপ কমে আসায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয় বাড়ার বিপরীতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি বিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে জ্বালানি তেলজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
অন্যদিকে জুলাইয়ে রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার কারণে বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চাপ কমাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স