সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, খতিয়ে দেখা দরকার: রিজভী

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ দুপুর
  • ৩১৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মৃত্যু নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো ষড়যন্ত্র ছিল—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক অর্থ, পরিকল্পনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এম. সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এ সভার আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, সাইফুর রহমানের মতো একজন অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তার মৃত্যু নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

তিনি সাইফুর রহমানকে বিএনপির গৌরব ও দেশের সম্পদ উল্লেখ করে বলেন, দেশ-বিদেশে তার অর্জন স্বীকৃত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে তিনি মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সাইফুর রহমানের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, তার সময়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কেউ এ ব্যবস্থা বাতিল করেনি; বরং দেশের অর্থনীতিতে ভ্যাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তার দাবি, সাইফুর রহমানের সময়ে দেশের অর্থনীতি ছিল সুশৃঙ্খল। তখন ব্যাংক লুট, ব্যাপক অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক থেকে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো পরিস্থিতির কথা শোনা যায়নি। তার নীতি ও ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্ত অবস্থানে ছিল।

রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লুটপাট ও অর্থপাচার ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, সাইফুর রহমান অর্থপাচার বন্ধে কাজ করেছিলেন এবং তার সময়ে পরবর্তী ১৭ বছরের মতো ব্যাংক লুট ও অর্থপাচারের চিত্র দেখা যায়নি।

দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে সাইফুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উত্তরাঞ্চলের মৌসুমি অভাব ‘মঙ্গা’ মোকাবিলায় বিকল্প কর্মসংস্থান ও কৃষির বহুমুখীকরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

রিজভী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষির অফ-সিজনে মানুষ ভ্যান, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

তিনি আরও বলেন, সাইফুর রহমান শুধু দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেননি, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্মানিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

সাইফুর রহমানের সামাজিক নিরাপত্তা ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ধারণা তিনি সামনে এনেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, হেলথ কার্ড ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

নতুন প্রজন্মের কাছে সাইফুর রহমানের বহুমাত্রিক অবদান তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, তার দেখানো পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাইফুর রহমানের ছোট ছেলে এম. নাসের রহমান এমপি। এতে জাতীয় সংসদের হুইপ জি.কে. গউছ এমপি, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এ.জি.এম শামসুল হক, জাসাস সভাপতি ও চিত্রনায়ক হেলাল খানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে এম. সাইফুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad