ধীরগতির সংস্কারে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিলেট-ছাতক রেলপথে ট্রেন চলাচল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২১৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পুনর্বাসনকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। এ পর্যন্ত মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে কবে নাগাদ এ পথে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট-ছাতক বাজার অংশের প্রায় ৩৪ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময়ে রেললাইনের লোহার পাত ও মূল্যবান স্লিপারও চুরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথটি পুনর্বাসনে ২০২৫ সালে ‘২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের পুনর্বাসন’ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। সরকারি অর্থ (জিওবি) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় অনুমোদন পায়।

কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড। একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১৭ কোটি টাকা হলেও চুক্তিমূল্য প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও এখনো বড় অংশের কাজ বাকি।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর তথ্যমতে, প্রকল্পের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাটিভরাট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলছে। প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সংস্কার, মাটিভরাট, কালভার্ট ও সেতু মেরামত, নতুন স্লিপার স্থাপন এবং নতুন রেললাইন বসানোর কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ছাতক থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পুরোনো রেললাইন অপসারণ করা হয়েছে। তবে নতুন ট্র্যাক স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ এখনো বাকি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ, হাসনাবাদ, কালারুকা, মাধবপুর, ছৈলা-আফজলাবাদ, সৎপুর এবং সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চিসহ বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজ ধীরগতিতে চলছে। কোথাও কোথাও কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেল বলেন, ছাতকের সিমেন্ট, চুনাপাথর, বালু ও পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে এ রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাশাপাশি কম খরচে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের সুযোগ ছিল। বন্যার পর থেকে রেলপথ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জাউয়া বাজারের ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, সংস্কারকাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে কিছুদিন কাজ চললেও পরে কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। কাজ বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কেও স্থানীয়রা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।

সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ বলেন, ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। মাটিভরাট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলছে। প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২৩ আগস্ট প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন মেয়াদ বাড়ানো ও পরবর্তী বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী সজিবুর রহমান বলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে বছরের বড় একটি সময় কাজ করা সম্ভব হয় না।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বৃষ্টি ও বর্ষার কারণে সময়মতো মাটির কাজ করা সম্ভব হয়নি। দেড় বছর মেয়াদের প্রকল্পের মধ্যে দুটি বর্ষাকাল থাকায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের সব কাজ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও এক বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad