সকালে ইডেন মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে রজনিগন্ধা, রক্তকরবী ও দোলনচাঁপা বাসে করে শিক্ষার্থীদের যাত্রা শুরু হয়। পথে বাসেই সকালের নাশতা ও আড্ডায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
ওয়ার সিমেট্রিতে ইতিহাসের মুখোমুখিশিক্ষাসফরের প্রথম গন্তব্য ছিল ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত এই সামরিক কবরস্থানে সারিবদ্ধ সমাধিফলক শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রতিটি সমাধিফলকে নিহত সৈনিকের নাম, পদবি, সেনাবাহিনীর পরিচয় ও মৃত্যুর তারিখ খোদাই করা রয়েছে। অল্প বয়সে প্রাণ হারানো সৈনিকদের স্মৃতি দেখে বইয়ের পাতায় পড়া যুদ্ধের ইতিহাস যেন শিক্ষার্থীদের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বার্ডে সবুজের প্রশান্তিএরপর শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ীর বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড) পরিদর্শন করেন। পল্লী উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির সবুজে ঘেরা পরিবেশ তাদের মুগ্ধ করে। প্রশস্ত সড়ক, গবেষণা ও একাডেমিক স্থাপনা, ক্যাফেটেরিয়া ও আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে। দূরে নীলাচল পাহাড়ের দৃশ্যও তাদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে।
এরপর শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। লালমাটির পাহাড় ও সবুজ অরণ্যে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাকৃতিক পরিবেশ তাদের মুগ্ধ করে। প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে আধুনিক জ্ঞানচর্চার এই মিলন শিক্ষাসফরে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
স্বপ্নচূড়ায় সাংস্কৃতিক আয়োজনপরবর্তী গন্তব্য ছিল স্বপ্নচূড়া রিসোর্ট। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত রিসোর্টটির ব্যতিক্রমী প্রবেশদ্বার শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দুপুরের খাবারের পর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. অমল কুমার চক্রবর্তীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অতিথি লিসান আনিছের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। তিনি দুটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অরিন দেবব্রত সিংহের ‘তেজ’ কবিতা আবৃত্তি করেন।
সহযোগী অধ্যাপক সোনিয়া চৌধুরী একটি গান পরিবেশন করেন। প্রধান অতিথি অপর্ণা চক্রবর্তী ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি’ গানটি পরিবেশন করেন। পরে তাহসিন রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত হয় র্যাফল ড্র। এতে সাতজন শিক্ষার্থী পুরস্কার পান। পরে শিক্ষকদের বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হয় হাঁড়িভাঙা প্রতিযোগিতা। এতে সফল হন অতিথি লিসান আনিছ ও সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজা আক্তার।
শালবনবিহারে প্রাচীন সভ্যতার সন্ধানেশিক্ষাসফরের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক শালবনবিহার। সেখানে যাওয়ার পথে প্রবেশপথের বিভিন্ন দোকান থেকে শিক্ষার্থীরা মাটির তৈরি সামগ্রী, বাঁশ-বেতের পণ্য, শোপিস, ফুলদানি, ব্যাগসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প ও স্মারক সামগ্রী কেনেন।
পরে তারা শালবনবিহারের প্রত্নস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এই স্থাপনার পোড়ামাটির দেয়াল ও স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। প্রাচীন বাংলার জীবনযাত্রা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান তারা।
সন্ধ্যায় শুরু হয় ঢাকার পথে ফিরতি যাত্রা। দিনের আনন্দ, উচ্ছ্বাস, আড্ডা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের কাছে কুমিল্লা সফর শুধু বিনোদনের ভ্রমণ নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার এক স্মরণীয় শিক্ষাভ্রমণ হয়ে ওঠে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক