সীতাকুণ্ডে জাল বণ্টননামা দলিলে জমি দখলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ দুপুর
  • ৫৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাল বণ্টননামা দলিল তৈরি করে বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মো. ওমর ফারুক ও আবু তাহের লিটন, আবদুল কাদেরের ছেলে মাসুদ পারভেজ শাহেদ এবং আবদুল নবির ছেলে মো. নাঈম উদ্দিন।

সীতাকুণ্ড থানার তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে জাল দলিল তৈরির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার, তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, কুমিরা মৌজার ১০ শতক বসতভিটা জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৯৪৮ নম্বরের একটি ভুয়া বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন। এতে জমির প্রকৃত মালিক মৃত আবদুল হককে ‘চতুর্থ পক্ষ’ দেখিয়ে সম্পত্তিটি নিজেদের নামে বণ্টন করে নেওয়া হয়।

আবদুল হকের পরিবারের অভিযোগ, তিনি জীবিত থাকাকালে ওই দলিল সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি কখনো সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসই দেননি। তদন্তে তার পাসপোর্টে থাকা মূল স্বাক্ষরের সঙ্গে বণ্টননামা দলিলে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের স্পষ্ট অমিলও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিলটি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। পরে ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল হক মারা যাওয়ার পর দলিলটি সামনে এনে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা শুরু হয়। এ নিয়ে বিরোধ তীব্র হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের আওতায় আসে।

মামলাটি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি বিস্তারিত অনুসন্ধান করে। গত ২৭ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ৩১ আগস্ট আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দলিলের সাক্ষীদের নিয়েও বিভিন্ন অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলিলের তৃতীয় সাক্ষী মো. সাইফুলকে ওয়ারিশি আপস-বণ্টনের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদের নাম দলিলে আংশিকভাবে ‘মো. শাহেদ’ হিসেবে ব্যবহার করে পরিচয় গোপনের চেষ্টা করা হয়।

এ ছাড়া জমি-সংক্রান্ত একটি বিবিধ মামলায় সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস থেকে আদালতে দেওয়া জবাবেও বণ্টননামা দলিলটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই জবাবে উল্লেখ করেন, বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছিল না।

এদিকে বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়ের ও তদন্ত চলার পরও আসামিদের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি জামিনে বের হয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad