গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন, আয় কমেছে সিএনজি চালকদের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ দুপুর
  • ৭০৫৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে সিএনজি নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। এতে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কমে গেছে চালকদের আয়, বেড়েছে তাদের আর্থিক দুর্দশা।

সিএনজি অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও তিনি মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন। গ্যাস সংগ্রহে দিনের বড় একটি সময় চলে যাওয়ায় তার দৈনিক আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শহিদুলের মতো দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সিএনজি অটোরিকশা চালক ও তাদের পরিবার এই সংকটের কারণে অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন। শহিদুলের স্ত্রী বিউটি বেগম জানান, গত সাড়ে চার মাস ধরে তারা বাড়িভাড়া দিতে পারছেন না। নিজের অসুস্থতার চিকিৎসাও অর্থাভাবে ঠিকমতো করাতে পারছেন না তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের আগস্টে দেশে গ্যাস সরবরাহ কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে যায়। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাবেও বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এ ধরনের সংকট অপ্রত্যাশিত। দেশে গ্যাসের মজুদ থাকলেও অনুসন্ধান ও খনন ছাড়া তা উত্তোলন করা সম্ভব নয়। কিন্তু নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি খাতে কার্যকর উদ্যোগ এবং নতুন ও বিকল্প গ্যাসের উৎস অনুসন্ধান করা না হলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে পরিবহন, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

সূত্র: ডয়েচে ভ্যালে




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad