মঙ্গলবার রাতে নিহতের স্বামী মো. মারুফ পারভেজ ফোন করে নিহার বাবার বাড়িতে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে মারুফ ও তার স্বজনেরা নিহাকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ি পৌরসভার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে নিহার সঙ্গে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার মো. মারুফ পারভেজের ছয় মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।
নিহা মারা যাওয়ার পর তার লাশ হাসপাতালে রেখেই স্বামী মারুফসহ তার স্বজনেরা সেখান থেকে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের মা রূপা আকতার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তার জামাই একাধিকবার নিহাকে মারধর করেছেন। এ বিষয়ে সতর্ক করার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। তার অভিযোগ, নির্যাতনের পর নিহাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা রূপা আকতার বাদী হয়ে স্বামী মারুফ পারভেজসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
বুধবার সকালে নিহার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক