রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর: গ্রেপ্তার ৩

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ দুপুর
  • ১০৭৫৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
তিনি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কেউ নন

রাজবাড়ী শহরের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটে ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে মারধরের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাজবাড়ী থানায় আসামিদের হাজির করে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌতম কুমার ঘোষ।

ওসি জানান, নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্য থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে তাদের শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আ. জলিলের ছেলে হেলাল উদ্দিন, মৃত জমজম খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম এবং দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন।

মামলায় এজাহারভুক্ত ৯ জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গত ২৯ আগস্ট দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটে তিন ব্যবসায়ী ও এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে একদল নারী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। ওই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বস্ত্র বিতানের মালিক আজিজ মন্ডল, রিয়াদিয়া বুটিকের মালিক খন্দকার আমিরুল খসরু (রাজিব), ট্রিম ফ্যাশনের মালিক কাজী নিয়ামুল হক এবং কর্মচারী শাহানা পারভীন (বৃষ্টি) সম্পর্কে অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়া হয়।

জাকিয়া সুলতানা কাদেরিয়া সুপার মার্কেটে ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামে একটি বুটিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টিকে নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়। জাকিয়ার অভিযোগ, বৃষ্টি কাপড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

এ সময় জাকিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয়।

একপর্যায়ে জাকিয়াকে ধাওয়া করে কাপড় বাজারের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে তাঁকে কিল-ঘুষি, থাপ্পড় ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের সহায়তায় জাকিয়াকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও ব্যবসায়ীরা তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে পুলিশ তাঁকে তাঁর স্বামীর হেফাজতে পাঠায়।

‘প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে’

আস্থা পোশাক শিল্পের মালিক জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি উইমেন চেম্বারের জেলা আহ্বায়ক। আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। আমার অধীনে ৫০০ থেকে ৬০০ নারী কাজ করেন। রাজবাড়ী কাপড় বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ী আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। এ কারণে আমাকে এই বাজার থেকে উৎখাত করতে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো নৈতিক স্খলনের অভিযোগ থাকলে তারা প্রশাসনকে জানাতে পারতেন।’

রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজির আহমেদ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ এবং ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মহিলা পরিষদের রাজবাড়ী জেলা শাখার পক্ষ থেকে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ায় রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে নারী ব্যবসায়ীকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে, তিনি একই বাজারের ব্যবসায়ী জাকিয়া সুলতানা। তিনি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মী নন। এ ছাড়া ওই দিন রাজবাড়ী বাজারে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো অভিযানও পরিচালিত হয়নি।

এ বিষয়ে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই দিন রাজবাড়ীতে অধিদপ্তরের কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়নি। পাশাপাশি রাজবাড়ীতে অধিদপ্তরের কোনো নারী কর্মকর্তাও নেই।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad