বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাগিবুল হাসান হৃদয়কে হত্যার মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন ও মো. রাব্বি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আশিক, শাকিল ও মতিন।
রায়ে পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থের অর্ধেক নিহত হৃদয়ের সন্তানকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি অর্ধেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যেভাবে হত্যা করা হয় হৃদয়কেমামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের কৈপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় হৃদয়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আসামিরা চাঁদা দাবি করেন। হৃদয় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দোকানের ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত হৃদয়কে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
রায়ে সন্তুষ্ট পরিবাররায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত হৃদয়ের বাবা-মা।
হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, তার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিলেন। ঈদের আগের দিন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। ঈদের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর পরদিন হৃদয়ের স্ত্রী একটি সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক।’
হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদও আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদার রহমান বলেন, চাঁদা না পেয়ে আসামিরা হৃদয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত পাঁচ আসামিকে দণ্ড দিয়েছেন। তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স