কাপ্তাইয়ে কচুরিপানার দখলে নৌপথ, ৫ মিনিটের পথ যেতে লাগছে এক ঘণ্টা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ দুপুর
  • ১৭৪৩৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রাঙামাটির কাপ্তাই লেক থেকে ভেসে আসা কচুরিপানায় কাপ্তাই জেটিঘাট সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নৌপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মাত্র পাঁচ মিনিটের নৌপথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, বোটচালক, মাছ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ।

কাপ্তাই অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বিএফডিসি প্লাটুন ঘাট ও আশপাশের এলাকায় কচুরিপানার স্তূপ জমে থাকায় ইঞ্জিনচালিত বোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক নৌযান ও মাছবাহী বোট স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। ঘাট থেকে বোট ছাড়ার সময়ও চালকদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিলাইছড়িগামী যাত্রী সুজন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বোট ছাড়ার পর সামনের প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানায় ভরে গেছে। ফলে সামান্য এই পথ পাড়ি দিতেই কখনো প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে।

বোটচালক মো. মাইন উদ্দীন ও মো. রুবেল জানান, কাপ্তাই জেটিঘাটে বর্তমানে নৌযান চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কচুরিপানা। স্রোতের কারণে প্রতিনিয়ত ঘাট এলাকায় কচুরিপানা জমছে। এতে বোটের পাখা (প্রপেলার) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং চালকদের অতিরিক্ত মেরামত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না। বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার লেক থেকে স্রোতের টানে এসব কচুরিপানা ভেসে এসে জেটিঘাট এলাকায় জমা হয়। এতে মাছবাহী বোট ঘাটে আসা এবং মাছ ওঠানামায় ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় সৃষ্ট স্রোতের সঙ্গে উজান থেকে কচুরিপানা ভেসে এসে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় আটকে যায়। আগের বছরগুলোতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বড় ট্রলারের মাধ্যমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছে। এবারও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে কর্তৃপক্ষ কাপ্তাই লেক থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও উজান থেকে নতুন করে কচুরিপানা ভেসে আসায় স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad