ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডার তৈরির কাজে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে মাগুরার মহম্মদপুর ও বাগেরহাটের চিতলমারীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই উপজেলায় পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। তারা নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
মহম্মদপুরে ইউএনওর অপসারণ দাবি
মাগুরার মহম্মদপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রির অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপির একাংশ এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, নীতিমালা অনুসরণ না করে একটি পক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া এবং ইউএনওর অপসারণের দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু মিয়া, সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান আক্তার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সাজ্জাদুল আলম খান নান্নু, যুবদল নেতা শেখ শাহানুর রহমান এবং জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পারভেজ আলমসহ অনেকে।
অন্যদিকে, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মৈয়ুর আলী মৃধা দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
চিতলমারীতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ
বাগেরহাটের চিতলমারীতেও ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডার তৈরির কাজে লোক নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। তারা ব্যানার, ঝাড়ু ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইউএনও খাদিজা আক্তার এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রণজিৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে ইউএনও, সমাজসেবা, শিক্ষা, মৎস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের দরজা বন্ধ ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ডিজিটাল জরিপকাজে অভিজ্ঞ এবং অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তারা অবিলম্বে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।
বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। জনগণ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শরিফুল হাসান অপু, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, শিপন মুন্সি, জাকারিয়া মিলন, নিয়ামত আলী খান ও জবরুল শেখসহ স্থানীয় নেতারা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক