ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কোন্নয়নের যে প্রচেষ্টা চলছিল, দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার ঘটনা সেই প্রক্রিয়ার জন্য অনুকূল নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির।
রোববার (৯ আগস্ট) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে তার এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন করে না—দিল্লির পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে ভারত সরকারের এই বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, “ভারত সরকার কোনো দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে না বা তারা এর সঙ্গে যুক্ত নয় কিংবা তারা এই মতের সঙ্গে একমত নয়—এই কথাগুলো সত্যিকার অর্থেই কোনো অর্থ বহন করে না।”
হুমায়ুন কবিরের মতে, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় দেশের সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে।
বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ করেছে, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের সমর্থন ছিল। এ ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের চলমান প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের আগেই এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা ভারতকে জানানো হয়েছিল। এরপরও তাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “এই আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এমন একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।”
হুমায়ুন কবির মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের যে প্রচেষ্টা ছিল, সেটিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক