দুটি পা নেই, তবু থামেনি জীবনযুদ্ধ: দুই হাতে নৌকা টেনে চার সদস্যের সংসার চালান আলাউদ্দিন

  • মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ দুপুর
  • ১১১৭২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

মাত্র ১৩ বছর বয়সে পোলিওর নির্মম আঘাতে হারিয়েছেন দুটি পা। অনেকের কাছে এমন পরিস্থিতিতে জীবন থমকে যাওয়ার কথা হলেও, হার না মেনে দুই হাতকেই শক্তি বানিয়ে প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের রাউতান গ্রামের প্রতিবন্ধী আলাউদ্দিন।

যৌবনে সংসার গড়েছিলেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার চার সদস্যের পরিবার। পরিবারের ভরণপোষণের একমাত্র অবলম্বন একটি নৌকা। প্রতিদিন অসহনীয় শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে দুই হাতের জোরে নৌকা টেনে নদী পারাপার করান যাত্রীদের। দিন শেষে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে পরিবারের খরচ।

কয়েক বছর আগে আলাউদ্দিনের জীবনসংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বিশ্বাস। বিষয়টি বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অনেক হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতায় তার জন্য একটি নৌকা কিনে দেওয়া হয়। সেই নৌকাই দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে নৌকাটি এখন ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন সেই নৌকায় যাত্রী পারাপার করছেন আলাউদ্দিন।

শুধু কর্মজীবনের কষ্টই নয়, বসবাসের অবস্থাও অত্যন্ত মানবেতর। তার বসতঘরটি জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই চালের বিভিন্ন ফাঁক দিয়ে পানি পড়তে থাকে। তখন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘরের এক কোণে গাদাগাদি করে রাত কাটাতে হয়। অনেক সময় বৃষ্টির রাতগুলো নির্ঘুম কাটে, শুধু বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়।

প্রতিটি দিনই যেন আলাউদ্দিনের কাছে নতুন এক সংগ্রাম। তবুও নিজের ভাগ্য নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার অদম্য ইচ্ছাই তাকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার শক্তি জোগায়।

স্থানীয়দের দাবি, আলাউদ্দিনের জন্য একটি নিরাপদ বসতঘর, নতুন একটি নৌকা এবং টেকসই জীবিকার ব্যবস্থা করা হলে তিনি আরও সম্মানের সঙ্গে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানবিক সহায়তাই এখন আলাউদ্দিন ও তার পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad