দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাভাবিক পরীক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত। অসংখ্য উপজেলা ও শহরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। ফলে পরীক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাস্তবতা উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
শিবির নেতারা আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও অনুকূল পরিবেশ অপরিহার্য। অথচ প্রতিকূল আবহাওয়া, প্লাবিত সড়ক ও ভেঙে পড়া যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যেও অনেক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব কিংবা মানবিক নয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চলমান দুর্যোগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট জটিলতা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারকে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা উচিত। পাশাপাশি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা যেন পর্যাপ্ত সময় পায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক