বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই জয়ে অতিরিক্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। ম্যাচ শেষে তিনি মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমালোচনা ও বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগেরও জবাব দেন।
আলভারেজ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলা হচ্ছে, সেদিকে আমরা মনোযোগ দিই না। আমাদের পুরো দল ঐক্যবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী এবং মানসিকভাবে শক্ত। বাইরে যা-ই আলোচনা হোক, তার কোনো প্রভাব আমাদের ড্রেসিংরুমে পড়ে না।”
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু পোস্টে দলটির বিরুদ্ধে রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব কিংবা ভাগ্যের অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও, এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে লিওনেল মেসির পর আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় ভরসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন আলভারেজ। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতে তিনি নিয়মিত একাদশে সুযোগ পাননি এবং প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সও দেখাতে পারেননি। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান।
অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর লাউতারো মার্টিনেজ আরেকটি গোল করলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবে দুই দলই টুর্নামেন্টে দীর্ঘ সময় মাঠে কাটিয়েছে। এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড খেলেছে ৫৭০ মিনিট, আর আর্জেন্টিনা ৬০০ মিনিট—যা এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে অপর সেমিফাইনালের দুই দল ফ্রান্স ও স্পেন এখন পর্যন্ত ৫৪০ মিনিট করে খেলেছে এবং তাদের কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়নি। ফলে বিশ্রামের দিক থেকে তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
তবে ক্লান্তি কিংবা বাইরের সমালোচনা—কোনোটিকেই গুরুত্ব দিতে নারাজ হুলিয়ান আলভারেজ। তাঁর ভাষায়, আর্জেন্টিনার পুরো মনোযোগ এখন শুধুই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স