সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার তেলকুপি গ্রামে একটি সোনার চেইন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা. মুক্তি খাতুন সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি চুরির পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তেলকুপি গ্রামের অসাধু গ্রাম্য প্রদান মজিবুর ও কথিত সাংবাদিক আরিফ ওরফে ভাটা আরিফ বাদিকে জোরপূর্বক আপস-মীমাংসায় বাধ্য করার চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে মুক্তি খাতুন তার শয়নকক্ষের ড্রেসিং টেবিলের ওপর প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন রেখে ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে চেইনটি খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করেও তা উদ্ধার করতে পারেননি। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময় তিনি প্রতিবেশী আব্দুর রউফ শেখকে তার শয়নকক্ষ থেকে বের হতে দেখেছিলেন, যার পর থেকেই তার সন্দেহের সূত্রপাত হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে অনুসন্ধান করে তিনি জানতে পারেন যে গত ২৫ জুন সলঙ্গা স্বর্ণকারপট্টির এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে চেইনটি বিক্রি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, আব্দুর রউফ শেখ চেইনটি কৌশলে নিয়ে তার বাবা ছবের আলী শেখের কাছে দেন এবং পরে ছবের আলী শেখ সেটি বিক্রি করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে তারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ বরং তেলকুপি গ্রামের বাসিন্দা সলঙ্গা থানা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ভাটা আরিফ সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চোরের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ খেয়ে আসামি পক্ষের কাছ থেকে রোজফি নিয়ে বিষয়টি ধামা চাপা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং গ্রাম্য প্রধান মজিবুর রহমানের নির্দেশে চৌকিদার দিয়ে বাদিকে ডেকে এনে আপস-মীমাংসায় বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী মুক্তি খাতুন আরো বলেন, “আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সোনার চেইনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত প্রতিকার চাই। কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করতে চাই না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সলঙ্গা স্বর্ণকার পট্টির স্বর্ণকার বরাদ আলীর কাছে উক্ত চোরাই স্বর্ণের চেইন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আট আনা নয়, বরং চার আনা আড়াই রতি স্বর্ণ ক্রয়ের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি প্রতিবেদককে জানান, গত ২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেলে ছবের তালই আমার কাছে একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে আসে। চেইনটির কোনো মেমো বা রশিদ ছিল না। তবে সে আমার পরিচিত হওয়ায় আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। পরে চেইনটি গলানোর পর খাদ বাদ দিয়ে এর ওজন দাঁড়ায় চার আনা আড়াই রতি। তখন আমি বাজারমূল্য অনুযায়ী ৪২ হাজার টাকায় ছবের তালইয়ের কাছ থেকে স্বর্ণটি ক্রয় করি।
অপরদিকে আরেক গ্রামপ্রধান আরিফ ওরফে ভাটা আরিফ মোবাইলে গণমাধ্যম কর্মী পরিচয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করে বলেন, আমরা গ্রামের প্রধানরা গ্রামের যে-কোন বিষয়ে বিচার করবো তাতে আপনাদের কি??
চুরির ঘটনার বিচার আপনারা করতে পারেন কিনা, চুরির মামামাল কিভাবে উদ্ধার করবেন জানতে চাইলে তিনি খেপে যান। তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে ও কোন পত্রিকায় বা টেলিভিশনে কাজ করেন সেটা বলতে পারেন নাই তিনি। এবং ভাটা আরিফ আরও বলেন চৌকিদার দিয়ে বাদি মুক্তিকে ডাকাইছি যদি বিচারে না আসে তাইলে বিচার পাছার মধ্যে দিয়ে যাবে। এমন একজন নারী বাঁদিকে অশালীন ভাষায় হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেয় ভাটা আরিফ।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এ দিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
চুরির ঘটনার থানায় অভিযোগ হওয়ার পর বাদির ইচ্ছার বাইরে গ্রামপ্রধানরা সালিল বা শাস্তি দেয়ার কোন আইনি সুযোগ না থাকলেও গ্রাম প্রধানদের এমন কান্ডে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
সলঙ্গা থানা সেচ্ছাসেবকদলের সদস্য আরিফ হোসেন কর্তৃক সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন বিষয়ে 'সিরাজগঞ্জ জেলা সেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল কায়েসকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানা ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আছলাম আলি বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি' তদন্ত করে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার