অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলায় তালিকাভুক্ত ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।
বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দি প্রদান করেন। তবে বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো জেরা অনুষ্ঠিত হয়নি।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুলাই দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম।
এদিন সাক্ষ্য দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলার চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম এবং বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে গত ৮ মার্চ আদালত মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ৩ মে একই আদালত অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈধ আয়ের উৎস থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে তার নিট সঞ্চয়ের পরিমাণ ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। অথচ তার নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অভিযোগ, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন করে বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করেছেন।
মামলাটির বিচার কার্যক্রম বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক