১০ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক, অকেজো সেতুতে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ জুন ২০২৬, ১১:১৮ রাত
  • ২৩৯১৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নে প্রায় এক দশক আগে নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে এখন কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। সেতু থাকলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে পাশ দিয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় উদয়পুর ও বাটামারা গ্রামসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলার ৮ নম্বর পক্ষিয়া ইউনিয়নের উদয়পুর ও বাটামারা গ্রামের সংযোগস্থলে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণ শেষে দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় সেতুটি আজও জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না।

বর্তমানে সেতুর দুই পাশে গভীর খাদ এবং বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকায় এটি প্রায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল সম্ভব হলেও বর্ষায় এলাকার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে সেতুর পাশ দিয়ে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।

বাটামারা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিনই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় শিক্ষক সোহাগ হোসাইন বলেন, "সংযোগ সড়কের অভাবে শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ জরুরি।"

সেতু থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত উদয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীম উদ্দিন জানান, বাটামারা গ্রাম থেকে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য "স্বল্প ব্যয় গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে" অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad