সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস ইজারার আওতায় না আসায় সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আড়ৎটি দ্রুত খাস ইজারাভুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসুদেবকোল মৌজার কুতুবের চর এলাকায় ২৫ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে গঠিত ‘কুতুবের চর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। মৎস্য আড়ৎ পরিচালনার স্বার্থে সমিতির পক্ষ থেকে সরকারকে ৩০ শতক জমি লিখিতভাবে প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সমিতির উদ্যোগে ব্যক্তি মালিকানাধীন লিজ নেওয়া ২ দশমিক ৭ একর জমির ওপর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি মৎস্য আড়ৎ গড়ে তোলা হয়েছে।
সমিতির সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে জমি ভরাট, শেড নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, যানবাহন পার্কিং ও স্যানিটেশন সুবিধাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেন। ফলে আড়ৎটি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ বেচাকেনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আড়ৎ সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৬০ থেকে ৭০ মেট্রিক টন মাছ এখানে আসে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারায় প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার মাছের লেনদেন হয়।
স্থানীয়দের মতে, এই মৎস্য আড়ৎকে কেন্দ্র করে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আড়ৎটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলার ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করায় বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ১০৬ জনে পৌঁছেছে।
তবে সব ধরনের শর্ত পূরণ করা হলেও রহস্যজনক কারণে আড়ৎটি এখনও সরকারি খাস ইজারার আওতায় আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কারণে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে ঘিরে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারের রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে দ্রুত কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে খাস ইজারার আওতায় আনা হোক।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক