ঈদযাত্রায় সিরাজগঞ্জে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ৩০ মে ২০২৬, ০১:৩৫ দুপুর
  • ২৫৬৭৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ঈদযাত্রায় সিরাজগঞ্জে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী


পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অটোরিকশা, সিএনজি, লেগুনা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের যাত্রীরা।

শুক্রবার (২৯ মে) জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পরিবহন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, কড্ডার মোড়, কাঠেরপুল, পিপুলবাড়িয়া, সয়দাবাদ, এনায়েতপুর মোড়, বেলকুচি, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা, তাড়াশ, চান্দাইকোনা, ভূঁইয়াগাতি, পাঙ্গাসী ও নিমগাছি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ সময়ে যেখানে ১৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, সেখানে ঈদকে কেন্দ্র করে একই দূরত্বে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে যাত্রীদের পরিবহনে তুলতে অনীহা প্রকাশ করছেন চালকরা।

কড্ডার মোড়ে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষমাণ এক চাকরিজীবী বলেন, “ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন। সাধারণ যাত্রীরা যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে।”

সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে কাজিপুরগামী যাত্রী ফারজানা খাতুন বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে সিএনজিতে নেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।”

অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় সিএনজি ও লেগুনা চালকরা সমন্বিতভাবে ভাড়া নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

তবে কয়েকজন অটোরিকশা ও সিএনজি চালকের দাবি, ঈদ উপলক্ষে যানজট বৃদ্ধি পাওয়ায় একাধিক ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হয় না। পাশাপাশি অনেক সময় খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হয়। সে কারণে তারা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি অনুমোদন বা নির্ধারিত নীতিমালার কথা তারা উল্লেখ করতে পারেননি।

এদিকে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, জেলার মহাসড়ক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রশাসনের কার্যকর তদারকি দৃশ্যমান নয়। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঈদ মৌসুমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং ভাড়া সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এমন পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী চালক ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ঈদের আনন্দঘন সময়ে বাড়ি ফেরা মানুষের কাছে যাতায়াতের এই অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোগান্তি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad