আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবীর ষষ্ঠবারের সময় আবেদন নামঞ্জুর, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীর বাদীপক্ষের সাক্ষীকে জেরার জন্য সময়ের আবেদন ষষ্ঠবারের মতো নামঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার (২০ মে) শুনানিতে আসামি চন্দন কুমার ধর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য বাদীপক্ষের সাক্ষীকে জেরার জন্য সময়ের আবেদন করেন। তিনি ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারার কথা জানান। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, একমাত্র আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে বারবার সময় আবেদন প্রচলিত আদালত প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন খারিজ করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী নিহত আইনজীবী আলিফের পিতা জামাল উদ্দীনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী সাক্ষীর বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২৪ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি চার্জ গঠনের পর ২ ফেব্রুয়ারি নিহতের পিতা জামাল উদ্দীন প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি, ৯ মার্চ, ৮ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল এবং ২০ মে—এই ছয় দফায় আসামিপক্ষের আইনজীবীর পক্ষ থেকে জেরার জন্য সময়ের আবেদন করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, প্রায় ৮০ বছর বয়সী এবং বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হলেও নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দীন প্রতিটি ধার্য তারিখে লোহাগাড়া থেকে আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বারবার সময় মঞ্জুর হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
শুনানির সময় কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত ছিলেন এবং অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি মা ও আশ্রমের দুই সন্ন্যাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চান। পাশাপাশি জামিন, চিকিৎসা ও সময় সংক্রান্ত তিনটি আবেদন দাখিল করা হলেও আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে আদালত সেগুলো শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দীন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক