হাটিকুমরুলে ছিনতাই-ডাকাতির মূল হোতা মুঞ্জরুল ও শাহিন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ১৮ মে ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল
  • ৫৩১৯৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg হাটিকুমরুলে ছিনতাই-ডাকাতির অভিযোগে আলোচনায় শাহিন ও মুঞ্জরুল।

হাটিকুমরুলে ছিনতাই-ডাকাতির মূল হোতা মুঞ্জরুল ও শাহিন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার হাটিকুমরুল ও সিরাজগঞ্জ রোড এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও এসব ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে আলোচিত মুঞ্জরুল ও শাহিন এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই সাধারণ মানুষকে হামলা ও ভয়ভীতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুঞ্জরুল ও শাহিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে দায়ের হওয়া ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় শাকিল আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের দাবি, শাকিল কেবল সহযোগী; চক্রটির মূল নিয়ন্ত্রক মুঞ্জরুল ও শাহিন এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একাধিক লোক গ্রেপ্তারের পরও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমেনি; বরং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হাটিকুমরুল ও সিরাজগঞ্জ রোড এলাকায় চলাচলকারী মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগ রয়েছে, মুঞ্জরুল ও শাহিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

হাটিকুমরুল গোলচত্বরের ঢাকা-বগুড়া বাসস্ট্যান্ডের ব্রিজের নিচে এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সেদিন রাত ১ টার দিকে শাহিন আমাদের সামনেই শাহজাদপুরের এক যুবককে চাকু দেখিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।”

পরে ওই যুবক জানান, তিনি ব্রডার ক্রস মোবাইলের ব্যবসা করেন। রাজশাহী থেকে ফেরার পথে শাহিন নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে আটকায় এবং তার কাছে থাকা নগদ ৩৪ হাজার টাকা ও প্রায় ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় তিনি সেদিন রাতেই সলঙ্গা থানায় সাধারন ডায়েরি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে শাহিন ও মুঞ্জরুলের বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আছলাম আলী জানান, “হাটিকুমরুল ও সিরাজগঞ্জ রোড এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad