প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে বিনামূল্যে পোশাক, জুতা ও ব্যাগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ বিকাল
  • ১০৯৯২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৫০ টাকা; ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা

নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ এবং মিড-ডে মিল কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগান্তরকে এসব তথ্য জানান।

পোশাক ও উপকরণে শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ ১ হাজার ৯৫০ টাকা

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীপ্রতি এক বছরের জন্য স্কুল ড্রেসে ৬০০ টাকা, ব্যাগে ৬০০ টাকা, জুতায় ৭০০ টাকা এবং মোজায় ৫০ টাকা বরাদ্দের হিসাব করা হয়েছে। এটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যয়। দরপত্রের মাধ্যমে কেনাকাটার সময় ব্যয় আরও কমানোর চেষ্টা করা হবে।

পাঁচ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)-এর আওতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা।

প্রথম বছর ধাপে ধাপে বিতরণ

স্কুল ড্রেসের মান, রং, কাপড় এবং শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী মাপ নির্ধারণে বিজিএমইএ, বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পাইলট কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই লাখ ইউনিফর্ম দিয়েছে। এ ছাড়া বাটা ও অ্যাপেক্সসহ বড় জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ হাজার জুতা সরবরাহ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক ও জুতার মাপ এবং মান নিশ্চিত করতে সময় প্রয়োজন। তাই প্রথম বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব উপকরণ দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ত্রুটিপূর্ণ উপকরণ সরবরাহ এড়াতে পর্যায়ক্রমে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী বছরগুলোতে স্কুল খোলার সময়ই এসব উপকরণ দেওয়ার লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই দেওয়া হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফল সংগ্রহের সময় পরবর্তী বছরের বই নিতে পারবেন।

৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী

দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য একজন কর্মীর মাসিক সর্বোচ্চ বেতন ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। পাঁচ বছরে এ খাতে মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চার থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের কাছ থেকে সব সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রত্যাশা করা যায় না। বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। শিক্ষকদের দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করানো কিংবা শিক্ষার্থীদের অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ব্যবহারে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।

মিড-ডে মিল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৫০টিতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য বিদ্যালয়গুলোতেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রান্না করা খাবার এবং কুপনের মাধ্যমে খাবার দেওয়ার দুটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। দেশব্যাপী চালুর আগে পদ্ধতি দুটি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ফলাফল পর্যালোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিশুদের দৈনিক পুষ্টির চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ের খাবার থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের চাহিদা বিবেচনায় খাবারের তালিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রান্না করা খাবারে স্থানীয় সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।

পিইডিপি-৫-এর ব্যয় কমেছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে পিইডিপি-৫ প্রকল্পের ব্যয় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে তা কমিয়ে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমানো হয়েছে।

পিইডিপি-৪ গত জুনে শেষ হয়েছে। এরপর জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি পিইডিপি-৫ চালুর কথা ছিল। প্রকল্পের কিছু খাত বাদ দেওয়া এবং অন্য প্রকল্পের আওতায় নেওয়ায় ব্যয় কমেছে বলে জানান তিনি।

তথ্যসূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad